মহাবিশ্বের শুরুর কথা

5/5 - (4 votes)

মহাবিশ্বের শুরুর কথা

মহাবিশ্বের শুরুর কথা
মহাবিশ্বের শুরুর কথা

মহাবিশ্বের শুরুর কথা অবশ্য দীর্ঘ সময় ধরে বলা হয়েছে ইহুদি, খ্রিষ্টান, মুসলিম ধর্মীয় গ্রন্থসমূহে। মহাকাশ বিজ্ঞানের ঐতিহ্য অনুসারে মহাবিশ্বের সূচনা একটি নির্দিষ্ট সময় পূর্বে হয়েছে যা বর্তমান সময় থেকে বেশি দূরের সময় নয়। এ বিষয় শুরু করার ক্ষেত্রে আরেকটি বিতর্ক হলো মহাবিশ্বের অস্তিত্ব ব্যাখ্যা করা।

‘দ্য সিটি অব গোল্ড’ বইয়ে সেন্ট অগাস্টিন আরেকটি বিতর্ক উপস্থাপন করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন সভ্যতা এগিয়ে চলছে এবং আমাদের মনে রাখতে হবে কে এই সমস্ত কৌশলপূর্ণ কাজ করছেন, উদ্ভাবন করছেন। সম্ভবত মানুষ এবং মহাবিশ্ব একই সময়ে সৃষ্টি হয়েছিল, অন্যথায় আমরা আরও এগিয়ে যেতাম বর্তমানের চেয়ে।

‘জেনেসিস’ বই অনুসারে সেন্ট অগাস্টিন মহাবিশ্বের সৃষ্টির ব্যাপারে খ্রিঃ পূঃ ৫০০০ বছরের সময়টিকে গ্রহণ করেন। এটি মজার ব্যাপার, এই সময়টি বরফ যুগের শেষ সময় ১০০০ পূঃ বছরের পার্থক্য খুব একটা বেশি নয় যে সময়ে মূলত সভ্যতার সত্যিকার শুরু হয়েছিল।

মহাবিশ্বের শুরুর কথা
মহাবিশ্বের শুরুর কথা

এরিস্টটল এবং অন্য গ্রিক দার্শনিকেরা এটি পছন্দ করলেন না, কারণ এটি স্বর্গীয় সৃষ্টির ব্যাপারে বিস্তর হস্তক্ষেপের মতো। তারা বিশ্বাস করতেন মানুষ ও পৃথিবী ছিল, আছে এবং চিরদিন থাকবে। সভ্যতার ঠিকান সম্পর্কে তারা এমন ধারণা করেছিলেন যে বন্যা বা বিপর্যয় সভ্যতাকে পুনরায় শুরুর অবস্থায় নিয়ে যায় একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর।।

মহাবিশ্বের শুরুর কথা

যখন বেশিরভাগ মানুষ বিশ্বাস করত মহাবিশ্ব অপরিবর্তনশীল তখন অধিবিদ্যা বা ধর্মতত্ত্ব সেরুর প্রশ্ন লাগে। অনেকে এমনও চিন্তা করতে পারেন যে মহাবিশ্ব চিরদিন স্থায়ী অথবা গতিবিধি এমন যে এটি চিরদিন স্থায়ী এমন ভাবনার উদ্রেক করে। কিন্তু ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে এডউইন হাবল একটি অসাধারণ পর্যবেক্ষণ করেন-নক্ষত্রসমূহ দ্রুত আমাদের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। অন্যভাবে বললে মহাবিশ্ব সম্প্রসারণশীল। এটি প্রমাণ করে শুরুর দিকে মহাজাগতিক বস্তুসমূহ কাছাকাছি ছিল। প্রকৃতপক্ষে, দশ বা বিশ মিনি বছরের মাঝামাঝি কোনো সময়ে বস্তুসমূহ একটি স্থানে ছিল।

এই আবিষ্কার শেষপর্যন্ত বিজ্ঞানের রাজ্যে প্রশ্ন উপস্থাপন করল মহাবিশ্বের শুরু নিয়ে। হাবলের পর্যবেক্ষণ ইঙ্গিত করে মহাবিস্ফোরণ নামে। একটি সময় ছিল, যে সময়ে মহাবিশ্ব খুবই ক্ষুদ্র ছিল এবং খুবই অপূর্ণ অবস্থায় ছিল। যদি ঐ সময়ে কোনো ঘটনা ঘটে থাকে তা প্রভাব ফেলতে পারে না। তাদের অস্তিত্ব উপেক্ষা করা যায়, কারণ এটির আর কোনে পর্যবেক্ষণে যাওয়ার মধ্যে থাকে না।

মহাবিশ্বের শুরুর কথা
মহাবিশ্বের শুরুর কথা

কেউ কেউ বলতে পারেন মহাবিস্ফোরণের শুরুতে সময়ের শুরু- অন্ত আগের বিষয় বলে সাধারণত তা সংজ্ঞায়িত করা যায় না। এটি মোটা দাগে বলা যায়, সময়ের এই তরুটা পূর্বের ধারণা থেকে স্পষ্ট পার্থক্য স্বরূপ এটি অপরিবর্তনীল মহাবিশ্বের একটি সময়ের ত আসলে মহাবিশ্বের বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়ার মতো কিছু ভৌতভাবে এমন শুরুর কোনো প্রয়োজন নেই। কেউ কেউ কল্পনা করতে পারেন সৃষ্টিকর্তা অতীতে কোনো সময়ে মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন।

অন্যদিকে যদি মহাবিশ্ব সম্প্রসারণশীল হয় তবে এর পিছনে অবশ্য কারণ থাকতে হবে । কেউ কেউ এমনও বিশ্বাস করতে পারেন যে সৃষ্টিকর্তা তাৎক্ষণিক মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমে মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন অথবা তিনি পরবর্তীতে এমন করেও সৃষ্টি করতে পারেন যেন এটি মহাবিস্ফোরণ তারাই সৃষ্ট। কিন্তু এটি মহাবিস্ফোরণের পূর্বে সৃষ্টি হয়েছে। এটি বিশ্বাস করা অর্থপূর্ণ হবে না। একটি সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্ব সৃষ্টিকর্তাকে উপেক্ষা করে না, কিন্তু একটি সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়ে দেয়-কখন তিনি এটা করেছেন?

Learn more Click Here

One thought on “মহাবিশ্বের শুরুর কথা

Leave a Reply

Your email address will not be published.